আগামীকাল আয়ারল্যান্ডের মাঠিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগেও ছয় বার ফাইনাল খেলতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু জয়ের দেখা পায় নি। তবে এবার কি সফলতার মুখ দেখবে টাইগাররা?
চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশের যত ফাইনাল :
২০০৯ ত্রিদেশীয় সিরিজ ফাইনাল,
সেই সিরিজে বাংলাদেশের মাঠিতে আতিথেয়তা করেছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে। এবং সেই সিরিজেই প্রথম কোনো ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচে ৬ রানে লঙ্কানদের ৫ উইকেটের শিকার করেছিলো বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের শেষদিকে রুবেল হোসেনের বোলিংয়ে মুত্তিয়া মুরালিধরনের তাণ্ডবে ২ উইকেটে জয়লাভ করে শ্রীলংকা। ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল, সেই বার এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশে। সেই আসরে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া ২৩৭ রানের লক্ষ্য খেলতে নেমে ২ রানে পরাজতি হয় বাংলাদেশ।
২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনাল,
২০১৬ সালের এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ ছিলো বাংলাদেশ। সেই বার শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেই ফাইনালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয়।
২০১৮ ত্রিদেশীয় সিরিজ ফাইনাল,
এ যেন ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে শ্রীলঙ্কাকে একটি ম্যাচে হারিয়ে, লঙ্কানরা আবার একটি ম্যাচে হেরে বসে জিম্বাবুয়ের কাছে। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ২২১ রানে আটকে প্রথম ফাইনাল জয়ের মোক্ষম সুযোগও এসেছিল সামনে। কিন্তু ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গিয়ে আরও একবার ব্যর্থতার ঢেউয়ে পর্যবসিত হয় টাইগাররা।
নিদাহাস ট্রফি, ২০১৮
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় টুর্নামেন্ট বা ত্রিদেশীয় সিরিজ এটি। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে দুইবার হারিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে ফাইনাল। দু’টি ম্যাচই উত্তাপ ছড়িয়েছিল মাঠ থেকে শুরু করে গ্যালারি কিংবা অনলাইন জগৎ পর্যন্ত।
ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে ছিল ভারত, যে দলে ছিলেন না বিরাট কোহল ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মত সিনিয়র খেলোয়াড়রা। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন দল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সেই ফাইনালে বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৭ রান তাড়া করতে নামে। সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারে প্রায় জিতেই গিয়েছিল টাইগাররা। তবে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে কাঙ্ক্ষিত ৫ রানের দেখা পেয়ে যান দীনেশ কার্তিক। ফলে বাংলাদেশ হারে ৪ উইকেটে।
এশিয়া কাপ, ২০১৮
একই বছর আরেক ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আবারো ভারতকেই পায় বাংলাদেশ। মাত্র ২২২ রানের পূঁজি নিয়েও ওয়ানডে ফরম্যাটের ফাইনালে ভারতকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের করা ইনিংসের শেষ বলে ভারত তুলে নেয় ৩ উইকেটের জয়।
৭ ’ সংখ্যাকে বলা হয় সৌভাগ্যের নম্বর। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে নিজেদের সপ্তম ফাইনালের সামনে। অতীত ইতিহাসে স্বস্তির সংবাদ না থাকায় ‘ফাইনাল’ থেকে বাংলাদেশের প্রেরণা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে টাইগারদের যেমন পারফরম্যান্স, তাতে তো উইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশই বেশি ফেভারিট। মাশরাফি-সাকিবরা কি পারবেন ফাইনালের ফাঁড়া কাটাতে? সপ্তম ফাইনাল সত্যিকার অর্থেই ‘লাকি সেভেন’ হয়ে উঠবে তো!

