আইসিসি ইভেন্টে এখন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ভারতের সাথে জমজমাট লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই জমে উঠেছে এই লড়াই। দেখেনিন আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশ ও ভারতের পরিসংখ্যান :

২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপঃ

টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে ভারতকে পরাজিত করার পেছনে তামিমের মূল ভূমিকা থাকায় সবার দৃষ্টি পড়ে তামিমের উপর। তামিম ইকবাল ঠিক তখন থেকেই সবার কাছে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের বোলার মাশরাফি বিন মর্তুজা সে ম্যাচে ভারতকে ১৯১ রানে আটকে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং একই সাথে তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতের ম্যাচ জয়ের আশা যেন ফিকে হয়ে গিয়েছিল। জহির খানের করা একটি বল তামিমের ঘাড়ে আঘাত হানলে তামিম কোনো প্রতিক্রীয়া দেখাননি।

তবে উত্তর দিয়েছিলেন ব্যাটে। একই ওভারের পঞ্চম বলে মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সে উত্তর দিয়েছিলেন। তামিমের এই শটই যেন বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে এই জয়ের পর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভুলে রাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা উল্লাসে মেতে উঠেছিল।

২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ

ইংল্যান্ডের অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সংস্করণে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত প্র্রথম ম্যাচে পায় বাংলাদেশকে। ট্রেন্ট ব্রিজে বাংলাদেশকে ২৫ রানে পরাজিত করে শুভসূচনা করে ধোনির দল ভারত।

সে ম্যাচে গৌতম গম্ভীর ৪৬ বলে ৫০ রানই ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান এবং এর মাঝে ভারতের শুরুটাও বেশ আক্রমণাত্মক হয়। পাশাপাশি যুবরাজ সিং ১৮ বল খেলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪১ রানের ইনিংসটি ভারতকে পাঁচ উইকেটের বিনিময়ে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ এনে দিতে সক্ষম হয়।

বেঙ্গালুরুর স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা ২১ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট লাভ করেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাতে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের বেশি করতে পারেনি।

২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপঃ

এই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মিরপুরে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বীরেন্দর শেবাগের অনবদ্য ১৭৫ ও বিরাট কোহলির অপরাজিত ১০০ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৭০ রান সংগ্রহ করে।

পাহাড়সম এই রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রানের বেশি করতে পারেনি। তাতে ভারত ৮৭ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে। সেবার অবশ্য শিরাপাও জিতেছিল তারা।

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ

এই বিশ্বকাপে ভারত মিরপুরে স্বাগতিক বাংলাদেশকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে। ভারতের রবীচন্দ্রন আশ্বিন (৪-০-১৫-২) এবং অমিত মিশ্র (৪-০-৩৬-৩) এর দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস অল্পতেই গুটিয়ে যায়।

তাতে ৭ উইকেটের বিনিময়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৮ রান! এরপর ভারত ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মার ৪৪ বলের ৫৬ এবং কোহলির ৫০ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৯ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জয় পায়।

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপঃ

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ চমৎকার খেলেছে। কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় সেই শক্তিশালী ভারতের।

রোহিত শর্মার ১৩৭ ও সুরেশ রায়নার অর্ধশত রানের ইনিংসে ভর করে ভারত মেলবোর্নে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রানের সংগ্রহ পায়। ৩০৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পার্টনারশিপ যেন জমছিলই না।

৩৩ রান যেতে না যেতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। অবশেষে ৪৫ ওভারে মাত্র ১৯৩ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস। ভারত জয় পায় ১০৯ রানের বড় ব্যবধানে।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ

সুপার টেনে ভারতের বিপক্ষে দারুণ খেলে বাংলাদেশ। প্রথমে মুস্তাফিজ ও আল-আমিন হোসেনের বোলিং তোপে ১৪৬ রানে ভারতকে আটকে রাখে বাংলাদেশ। এরপর তামিম, সাব্বির, সাকিব, সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

শেষদিকে ৩ বলে জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার করা শেষ ওভারে বাংলাদেশ সেটি নিতে পারেনি। ফলে ১ রানে হেরে যায়।

এবার দেখার বিষয় ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কেমন খেলে বাংলাদেশ।