
৭বছরের প্রেমের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন শত মেয়ের স্বপ্ন তাসকিন আহমেদ। তবে প্রেম শুধু তাসকিন নয় মোসাদ্দেক ও করেছিলেন এবং তার ভালবাসাকে এখনো বুকে আগলে রেখেছেন। চলুন শোনা যাক তার প্রেম কাহিনী…সপ্তাহ পাঁচেক আগে এক রেডিও স্টেশনে কথা বলছিলেন এই বাংলার তরুন তুর্কি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
যে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রেডিওর চিরচেনা লাভ গুরু নিজে। কথার এক পর্বে লাভ গুরুর প্রশ্ন-উত্তর পর্ব।তারপর সৈকত যে উত্তর দিলেন তা শুধু চুপচাপ শুনে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না লাভ গুরুরও।
উত্তরে মোসাদ্দেক বলেন হ্যা আমার জিবনেও প্রেম এসেছে। আমি আমার প্রেমকে আগলে ধরে রেখেছি।শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত রাখবো।আমার সেই প্রেম কোন মেয়ের প্রতি না।শুধুই খেলার প্রতি। আমি যখন খুব ছোট আমার বাবার এক কঠিন রোগ হয়।আমাদের একটু খানি জমি ছিলো সেটা বিক্রি করে চিকিৎসা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। কিন্তু আমার পিতা আমাদের চিকিৎসার সুযোগ ও দেননি।আমাদের ভবিষ্যৎ ওই জায়গাটুকুই তাই নিজের অশুখের কথা গোপন করেন তিনি।
একদিন তাকে অন্ধকার ঘড়ে শুইয়ে আসলাম। পরিবারে আমরা ৩ ভাই আমিই সবার বড়। বাবা চলে যাওয়ার পর সংসারে আর উপার্জনক্ষম কেও রইল না।কিন্তু আমার বাবা আমার খেলার প্রতি আগ্রহটা উপভোগ করতেন। আমায় উৎসাহ দিতেন।তাই আর এই খেলাটাকে ছাড়তে পারিনি। আগলে রেখেছি বুকের মধ্যিখানে।
চোখের সামনে ছোট দুইভাই না খেয়ে অনাহারে ঘুড়ে বেড়াতো আমি দেখতাম। খেলাটা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ ছিলো আমি দেইনি।কস্ট বুকে চেপে এই মাঠে অই মাঠে দৌড়ে বেরিয়েছি। অভাবের তারনায় একটা খেলার জুতা ৩ তিনবার সেলাই করে কাজ চালিয়েছি। ৫ টাকা ভাড়া বাচানোর জন্য বহুদুরের রাস্তা হেটেই প্রাক্টিসে গিয়েছি।
কয় বছরই বা বয়স তখন হবে হয়তো ৮-১০।বিকেএসপিতে ২ দুইবার পরিক্ষা দিয়ে ব্যার্থ হয়েছি।তবুও নিজের আস্থা ভালোবাসাকে বিষর্জন দেইনি। ময়মনসিংহ থেকে একাই বি কে এস পিতে আসতাম। পরবর্তীতে চান্স পাই।একটু একটু করে এগোতে থাকি আমার ভালোবাসা জয়ের লক্ষে।হ্যা আজ আমি আমার প্রেমকে জয় করতে পেরেছি। শতকোটি মানুষেরর ভালবাসা আজ পাচ্ছি।
এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। আজ নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ গেলে ছোট দুই। ভাইয়ের দিকে তাকাই আজ আর তারা অনাহারে ঘুরে বেরায় না।
– ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
