
বুরিগঙ্গার পাড়ে এক ঝুপড়ী ঘড়ে জন্ম তার। পরিবারের আর্থিক অভাব অনটনে জীবনের যে কোন পর্যায় হারিয়ে যাতে পারতেন তিনি। ভাঙ্গারী কুরানো শিশুদের সাথে মিশে হয়ে যেতে পারতেন নাম না যানা কোন ভাঙ্গারী ওয়ালা। জিঞ্জিরা কিনবা ধুলাই খালের নিত্য পরিচিত কোন দোকানের কর্মচারী হয়েও কাটতে পারতো তার জীবন। কিন্তু তিনি তার কোনটাই হননি। ক্রিকেটের প্রতি তার অকৃত্তিম ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেছেন সবুজ মাঠের এক বিস্ময়কর জাদুকর। নিজেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। তিনি চোখ ধাঁধানো বিস্ময় মহিত করেছেন ক্রিকেট পাগল বাঙ্গালীকে। যে আলোর ছোঁয়াই এক জন স্পিনার হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন বর্তমান যুগের সাকিবরা। তিনি হলে স্পিন জাদুকর মোহাম্মদ রফিক।
শুরুতে ছিলেন বা হাতি পেসার। পেশাদারী ক্যারিয়ার শুরুও করেন পেসার হিসেবেই। পরে বন্ধু ওয়াসিম হায়দারের পরামর্শে হয়ে ওঠেন এক জন স্পিনার। সেই বাহাতি স্পিনার দিয়ে নজর কাড়ে পুরো বিশ্বের।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে খুব সাদামাটা ক্রিকেটার মনে হবে রফিককে। ৩৩ টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ টেস্ট উইকেট। আর ১২৫ ওয়ানডেতে ১২৫ উইকেট যেকোন মাঝারি মানের স্পিনারেরি থাকতে পারে। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ২২৫০ রানও খুব নগন্ন।
রেকর্ডি বা এমন কি! বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট ও ওয়ানডেতে প্রথম ১০০ উইকেট নেওয়া বলার। পরিসংখান বলছে খুব বেশি কিছু অর্জন নেই তার জুলিতে। কিন্তু রফিককে পরিসংখান দিয়ে মাপা যায় না। লাল সবুজের চিহ্ন বুকে নিয়ে বল করতেন তখন একে বারে শিশু বাংলাদেশের ক্রিকেট।
অধিকাংশ টেস্টে দ্বিতিয় ইনিংসে বল করতে পারতেন না তিনি। অনেক সময় তাকে হাস্যকর সিদ্ধান্তে বসিয়ে রাখা হতো টেস্টে। আর খেলতে পারলেই বা কি হতো? ১০০ জায়গায় ২০০/২৫০ টেস্ট উইকেট থাকত তার। কিন্তু তাতেও কি বুঝা যায় রফিককে! না যায় না।
খেলা শেষে ম্যাচ সেরার পুরুস্কার হাতে রফিক যখন কথা বলতেন তখনি বুঝাজেত স্কুল কলেজের গন্ডির সাথে তার আজনন দুরুত্ব। কিন্তু কিংবধন্তি হতে যে স্কুল কলেজের গন্ডি পর হতে লাগে না সেটাও সরল হাসিতে বুঝিয়ে দিতেন মোহাম্মাদ রফিক।
ছোট বেলায় বুরিগঙ্গার পাড়ে গরু চরাতে এসে মাঝিকে বলে কয়ে পালিয়ে আসতেন ঢাকার এই পাড়ে। সিনেমা কিনবা বন্ধুদের টানে নয় ক্রিকেটার টানে। ঢাকায় আসলে ক্রিকেটটা ভালো খেলা যেত। আর যদি সংসারের অনটনে না আসতে পারতেন তাহলে জিঞ্জিরার অলিতে গলিতে চলতো তার ক্রিকেটিও আরাধোনা।
তারোকা হয়ে উঠার পরও তার নারীর টান ভুলেনি রফিক। মাঠ কিনবা মাঠের বাইরে সমসময় থাকতেন মাঠির মানুষ হয়ে। আইসিসি ট্রফি জয়ের পর তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞাস করেছিলেন কি চান। জবাবে রফিক বলে ছিলেন, বাবু বাজারে একটা ব্রিজ হলে খুব ভালো হত। খুব কষ্ট হয় দুই পারের মানুষের আসাযাওয়া করতে।
স্কুলে পড়তে পারেননি বলেই হইতো স্কুলের প্রতি তার দরত একটু বেশিই। ঐসময় পাওয়া রফিকের সরকারি জমির উপরে গড়ে উঠেছিলো স্কুল। গাড়ি বিক্রির টাকাও দান করেছিলেম সেই স্কুলের জন্যেই। বলেছিলেন, ভাই আমরাত পড়া লেখা করতে পারিনাই খুব গরিব ঘড়ের পোলা। পোলাপাইন গুলো যেন পারে। কি আসে যায় পরিসংখ্যানে? রান ও উইকেট দিয়ে কিংবধন্তি হওয়া যায়। কিন্তু রফিকরা তার চেও বেশি কিছু।
