
ভারত ক্রিকেট টিমের আরেক নাম শচীন টেন্ডুলকার। যাকে ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর বলা হয়। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখে শচীন। এই কথাটি সকলের জানা। কিন্তু ভারতীয় এই ক্রিকেট ঈশ্বরের অভিষেক হয়েছিলো আরো দুই বছর আগেই হয়েছিল। আর সেটা ভারতের হয়ে নয়। ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন শচীন। তার আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’তে এ তথ্য জানিয়েছেন শচীন নিজেই।
শচীন তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমি জানি না, ইমরান খানের মনে আছে কি না, একসময় আমি তার দলের হয়ে ফিল্ডিং করেছিলাম।’
ঘটনাটি হলো ১৯৮৭ সালের। তিন মাস পর ১৪ বছর পূর্ণ হবে শচীনের। সেসময় ইমরান খানের নেতৃত্বে ৫ টেস্টের একটি সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান দল। ওই সিরিজটি ছিল সুনীল গাভাস্কারের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) গোল্ডেন জুবিলি উপলক্ষ্যে একটি প্রতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। আর ওই ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। যিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ভরতের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। যিনি ছিলেন একশ কোটি ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। ২০ জানুয়ারি, ১৯৮৭। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে ৪০ ওভারে ওই ম্যাচে সিসিআই একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামে সফরকারী পাকিস্তান। সিসিআইর অধিনায়ক ছিলেন হেমন্ত কেনক্রে। পাকিস্তান তখন ফিল্ডিংয়ে। এ সময় জাভেদ মিয়াঁদাদ ও ইকবাল কাদের বিশ্রামের জন্য মাঠ ছাড়েন। তখন পাকিস্তানের অধিনায়ক ইমরান খান হেমন্তকে কয়েকজন বদলি ফিল্ডার দেয়ার অনুরোধ করেন। এ কথা শুনে শচীন অধিনায়ক হেমন্তের কাছে মাঠে নামার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু হেমন্ত অনুমতি দেয়ার আগে শচীন পাকিস্তানের পক্ষে ফিল্ডিং করতে মাঠে নেমে পড়েন। সেদিন ২৫ মিনিটের মতো পাকিস্তানের হয়ে নিজ দেশের বিপক্ষে ফিল্ডিং করেছিলেন শচীন।
ওই ম্যাচের বর্ণনা দিতে গিয়ে হেমন্ত বলেছেন, ‘বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খসরু (ভাসানিয়া) ছিল প্রথম পছন্দ। খসরু শচীনের চেয়ে বড় ছিল। এবং সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিল। খসরু ফিল্ডিং করেছিল অফ সাইডে। আর শচীন লেগ সাইডে, ডিপ মিড-উইকেটে। এসময় একটি ক্যাচ মিস করে শচীন। এবং ক্যাচ মিস করে সে খুবই হতাশ হয়ে পড়ে।’
