রেজিনাল্ড আরস্কিন ফস্টার নামটা কি সকলের কাছে অপরিচিত মনে হচ্ছে তাইনা? তবে টিপ ফস্টার বললে হয়তো কারো কারো আছে অপরিচিত মনে হবে না। এই নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে মাত্র আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার এমন একটি রেকর্ড রয়েছে, যা একশ বছরের বেশি সময়েও কেউ এখনও ভাঙতে পারেননি!

১৯০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ টেষ্টে অভিষেক হয় ফস্টারের। সিডনিতে অভিষেক নেমেই খেলেন ২৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এর পর ২৭ বছর ধরে এটিই ছিল টেস্টর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

১৯৩০ সালে তারই দেশের অ্যান্ডি স্যান্ডহোম ৩২৫ রান করে ভেঙে দেন ফস্টারের সেই রেকর্ড। তবে অভিষেকে ফস্টারের ২৮৭ রান একশ বছরের বেশি সময়েও ছাড়াতে পারেননি আর কেউ। এই রেকর্ডটি এখনো ফস্টারেরই আছে।

ফস্টার বিখ্যাত হয়ে আছেন আরো এক জায়গায়। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ফুটবল ও ক্রিকেট- দুটোতেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন!

১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন ফস্টার। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারও থেমে যায় সেই সিরিজেই।

ইংল্যান্ডের হয়ে ফস্টারের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের আগেই। ১৯০০ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন পাঁচ ম্যাচ।

ওয়েলসের বিপক্ষে হয়েছিল তার অভিষেক। দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।

১৯০২ সালে ওয়েলসের বিপক্ষে ফস্টার তার শেষ ম্যাচে পান ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব। গোলশূন্য ড্র হয় ম্যাচটি। ইংল্যান্ডের হয়ে সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে দুটি গোল করেছেন ফস্টার।

ফস্টাররা ছিলেন সাত ভাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সাত ভাইয়ের সবাই খেলেছেন ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে।

কিন্তু ফুটবল ও ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতো তার জীবনটাও দীর্ঘ হয়নি। ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৪ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।